জনসংখ্যা ও পর্যটক বৃদ্ধি

সৌদি আরবে বোতলজাত পানির চাহিদায় উল্লম্ফন

জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ ও পর্যটন খাতের প্রসারের ওপর ভর করে সৌদি আরবের বোতলজাত পানির শিল্প এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে।

অর্থনৈতিক রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর হাত ধরে এ খাতে বিনিয়োগ ও চাহিদা দুই-ই বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইমার্ক গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, ২০৩৪ সাল নাগাদ দেশটিতে বোতলজাত পানির বাজারের আকার দাঁড়াবে প্রায় ৫৫০ কোটি ডলারে। খবর আরব নিউজ।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক সুপেয় পানির সীমাবদ্ধতা ও ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসচেতনতা এ বাজারকে আরো স্থিতিশীল করে তুলছে। সৌদি আরবের বোতলজাত পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার পেছনে বেশকিছু মৌলিক কারণের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। এর মধ্যে আছে জনসংখ্যা ও নগরায়ণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও শহরের পরিধি বাড়তে থাকায় মানুষ দৈনন্দিন পানের জন্য বোতলজাত পানির ওপর অধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এছাড়া পর্যটন খাতের ব্যাপক বিস্তার এবং হজ-ওমরাহ পালনকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় খাতটির চাহিদা তুঙ্গে রয়েছে। পাশাপাশি চরম আবহাওয়া ও সুপেয় পানির সংকটে মানুষ স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বোতলজাত পানিকেই বেছে নিচ্ছে। তবে সৌদি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ‘ভিশন ২০৩০’-এ খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে পরোক্ষভাবে বড় ভূমিকা পালন করছে।

আর্থার ডি লিটল মিডল ইস্ট অ্যান্ড ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা অংশীদার থমাস কুরুভিলা বলেন, ‘সৌদি আরবের বোতলজাত পানির বাজার এ অঞ্চলের অন্যতম স্থিতিশীল একটি খাত। জলবায়ুগত পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান পর্যটন প্রবৃদ্ধির প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।’

ইমার্ক গ্রুপের প্রতিবেদন বলছে, বাজারে দেশী-বিদেশী উভয় প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বাড়ছে। বিশেষ করে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহকদের রুচি ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বুঝে ব্যবসায়িক কৌশল সাজানোয় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এর একটি বড় উদাহরণ হলো আল-জউফ মিনারেল ওয়াটার বটলিং কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ১১ লাখ ৬০ কোটি ডলার) নিট মুনাফা করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫১ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

হানা কো. ফর ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের কোয়ালিটি ম্যানেজার হোসাম এজাতের মতে, এ খাতে বর্তমানে বার্ষিক ৬-৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

তবে বাড়তে থাকা বাজারে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে এমিরেটস বায়োটেকের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার ফ্রাঁসোয়া ডি বি বলেন, ‘‌বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাজার প্রবৃদ্ধিকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে আলাদা করা। তরুণ প্রজন্মের গ্রাহকদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌আধুনিক গ্রাহকরা বোতলের সুবিধা চাইলেও পরিবেশের ক্ষতি করতে চান না। ফলে কোম্পানিগুলো এখন হালকা ওজনের পিইটি বোতল ও কাঁচের বোতলের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ আছে, গ্রাহক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুণমান ও উপযোগিতা নিয়ে সচেতন। ফলে সৌদি আরবের বাজারে এখন সাধারণ পানির পাশাপাশি প্রিমিয়াম, মিনারেল, অ্যালকালাইন ও ফ্লেভারড ওয়াটারের কদর বাড়ছে।

আরও